বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের নীতি: সমদূরত্ব না সমবন্ধুত্ব?
নিজস্ব প্রতিবেদক·১৮ জুন, ২০২৬ এ ০৩:০১ PM
বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই দুই পরাশক্তির মধ্যেকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশ্বজুড়ে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কোন পথে হাঁটবে, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে এই বিষয়টিই উঠে এসেছে, যেখানে বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর নীতি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঐতিহ্যগতভাবে, অনেক ছোট দেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে একটি 'সমদূরত্ব' বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে। এর উদ্দেশ্য থাকে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের সঙ্গে অতিমাত্রায় জড়িয়ে পড়া এড়ানো এবং নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে, এই নীতি বাংলাদেশের জন্য কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষণটিতে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে, কেবল সমদূরত্ব বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। বরং, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে 'সমবন্ধুত্ব' স্থাপন করার একটি নীতি গ্রহণ করা উচিত। এর অর্থ হলো, কোনো একটি নির্দিষ্ট পক্ষের প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে, উভয় পরাশক্তির সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের কাছ থেকে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ হাসিল করা।
বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয় দেশেরই যথেষ্ট অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন, যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারে। অন্যদিকে, চীনের কাছ থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিপুল সহায়তা পাওয়া সম্ভব। এই দুটি সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অপরিহার্য।
সমবন্ধুত্বের নীতি অনুসরণ করলে বাংলাদেশ তার নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে অধিকতর স্বাধীনতা পাবে। উভয় পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে, বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারবে। এটি কোনোভাবেই কোনো পক্ষের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ নয়, বরং নিজস্ব স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার একটি কৌশল।
এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কূটনৈতিক চাল চালতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি সুচিন্তিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। উভয় পরাশক্তির সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের নিজস্ব চাহিদা এবং অগ্রাধিকারগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
পরিশেষে, বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণে একটি বিচক্ষণ এবং কৌশলগত নীতি গ্রহণ করা জরুরি। সমদূরত্বের ধারণাকে অতিক্রম করে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে 'সমবন্ধুত্ব' স্থাপনই হতে পারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। এই নীতি বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগের দুয়ার খুলে দিতে পারে।
আরো বাংলাদেশ সংবাদ
শ্রীমঙ্গলে হাঁস-মুরগি খোয়া যাওয়ার রহস্য উন্মোচন, ধরা পড়লো অজগর
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বাড়ি থেকে নিয়মিত হাঁস-মুরগি হারিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন বৃহস্পতিবার সকালে সাপটি উদ্ধার করে।
১৬ জুলাই, ২০২৬ এ ০৭:০০ PM
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সায়েন্স ল্যাবে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা এবার সায়েন্স ল্যাবরটরি মোড় থেকে সচিবালয় অভিমুখে লং মার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আজ রাত ১০টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না করলে আগামীকাল সকাল ১০টায় এই কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
১৬ জুলাই, ২০২৬ এ ১০:০০ AM
রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার: মানব ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ
রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার মানবজাতির চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক বিপ্লবী পরিবর্তন এনেছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনারের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার রক্ত সঞ্চালনকে নিরাপদ করেছে এবং অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। এর আগে রক্ত সঞ্চালন প্রায়শই মারাত্মক প্রমাণিত হতো, কারণ বিজ্ঞানীরা জানতেন না যে সব রক্ত একই রকম নয়। ল্যান্ডস্টেইনারের গবেষণা কীভাবে এই রহস্য উন্মোচন করলো, সেই ইতিহাসই এখানে তুলে ধরা হলো।
১৬ জুলাই, ২০২৬ এ ০৯:০০ AM
দামুড়হুদায় মডেল মসজিদের কোরআন শিক্ষা কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা মডেল মসজিদে কোরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবারের ঘটনার পর রোববার উভয় পক্ষ পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
১৩ জুলাই, ২০২৬ এ ১০:০০ AM
