ইসরায়েল-হামাস সংঘাত: নেতানিয়াহুর পাশে ট্রাম্পের অবস্থান কি বদলাচ্ছে?
নিজস্ব প্রতিবেদক·১৮ জুন, ২০২৬ এ ১১:০১ PM
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েল নীতি বরাবরই দেশটির প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। বিশেষ করে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক সুবিদিত। তবে সম্প্রতি, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্রতা এবং এর ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকট নিয়ে ট্রাম্পের কিছু মন্তব্য তাঁর পূর্বের অবস্থান থেকে কিছুটা পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে ইসরায়েল ও তার মিত্রদের মধ্যে, নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরায়েলি হামলার পরিণতির কথা উল্লেখ করেছেন এবং এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। যদিও তিনি ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করেছেন, তবে তাঁর এই নতুন সুরকে অনেকেই নেতানিয়াহুর প্রতি তাঁর আগের অবিচল সমর্থনের একটি পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো মূলত আসন্ন মার্কিন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি কৌশলগত চাল হতে পারে, যেখানে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে একটি বৃহত্তর ভোটার গোষ্ঠীর মতামতকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন।
অন্যদিকে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর সরকারের নীতিতে অটল থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, হামাসকে পরাজিত না করা পর্যন্ত ইসরায়েল তার সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। নেতানিয়াহুর এই দৃঢ় অবস্থান আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা কম, যা ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, দুই নেতার মধ্যেকার ভবিষ্যৎ সম্পর্ক এবং তাদের রাজনৈতিক বোঝাপড়া মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের এই নতুন পর্যায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে যেমন ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তেমনই অন্যদিকে গাজার বেসামরিক জনগণের দুর্ভোগ এবং মানবিক বিপর্যয় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অবস্থান পরিবর্তন এই সংঘাত নিরসনে নতুন কূটনৈতিক মেরুকরণ ঘটাতে পারে।
ট্রাম্পের এই পরিবর্তিত অবস্থান ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। নেতানিয়াহুর সরকার এমনিতেই অভ্যন্তরীণভাবে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এমন পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রধান মিত্রের কাছ থেকে কিছুটা ভিন্ন সুর আশা করা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। তবে, ট্রাম্পের সমর্থকরা অনেকেই মনে করেন যে, তিনি এখনও ইসরায়েলের পক্ষে আছেন, তবে তিনি চান যে ইসরায়েল যেন আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে।
ভবিষ্যতে এই দুই নেতার মধ্যেকার সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার বিষয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ট্রাম্পের প্রভাব এবং নেতানিয়াহুর নীতিগত দৃঢ়তা—এই দুইয়ের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
আরো বিদেশ সংবাদ
সৌদি আরব ও কুয়েতের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন
যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব ও কুয়েতের কাছে প্রায় ২৪৪ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের জন্য ১.৯৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের উন্নত মানের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রের একটি প্যাকেজ রয়েছে।
১৬ জুলাই, ২০২৬ এ ১১:০০ AM
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি ইরাক থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেবে। তবে, মার্কিন কোম্পানিগুলো ইরাকে তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে পারবে।
১৫ জুলাই, ২০২৬ এ ১১:০০ AM
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
মাত্র এক বছরের মাথায় ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ইউলিয়া স্বিরিদেঙ্কো।
১৫ জুলাই, ২০২৬ এ ০৮:০০ AM
যুক্তরাজ্যে তরুণদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মধ্যরাতের কারফিউ
যুক্তরাজ্য সরকার ১৬-১৭ বছর বয়সী তরুণদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে মধ্যরাতের পর কারফিউ জারির পরিকল্পনা করছে। এর উদ্দেশ্য হলো তরুণদের পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনা ও পারিবারিক সম্পর্কে আরও মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করা।
১৫ জুলাই, ২০২৬ এ ০৭:০০ AM
