জেনেভায় জি-৭ সম্মেলন বিরোধী বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক·১৫ জুন, ২০২৬ এ ০১:০৪ PM
সুইজারল্যান্ডের মনোরম শহর জেনেভা সম্প্রতি এক অভূতপূর্ব বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবশালী সাতটি দেশ—যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং জাপান—এর নেতাদের সম্মেলন (জি-৭) অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়েই শহরের কেন্দ্রস্থলে হাজার হাজার মানুষ তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে জড়ো হয়। এই সম্মেলন যেখানে বিশ্ব নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণের মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হয়, সেখানে বিরোধী বিক্ষোভ ছিল এক ভিন্ন বার্তা।
বিক্ষোভকারীরা মূলত জি-৭ দেশগুলোর বৈশ্বিক নীতি, বিশেষ করে অর্থনৈতিক বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তাদের ভূমিকা এবং যুদ্ধ-সংঘাতের ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, এই ধনী দেশগুলোর নীতি প্রায়শই উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হয় এবং বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা বাড়ায়। তাই তারা এই সম্মেলনের মাধ্যমে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে কিনা, তা নিয়েও সন্দিহান ছিলেন।
সম্মেলনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও, বিক্ষোভকারীরা তাদের বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হন। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, পরিবেশবাদী গোষ্ঠী এবং মানবাধিকার কর্মীরা এই বিক্ষোভে অংশ নেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড এবং মুখে উচ্চারিত স্লোগানে জি-৭ নেতাদের কাছে আরও ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানানো হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা এবং তা মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর দায়িত্বের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, জি-৭ দেশগুলোর উচিত অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে শান্তির পক্ষে কাজ করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তারা আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে যে অর্থনৈতিক বৈষম্য দেখা যাচ্ছে, তার জন্য এই দেশগুলোর নীতি অনেকাংশে দায়ী। এই নীতিগুলোর পরিবর্তন না হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।
এই বিক্ষোভ শুধু জেনেভার রাজপথেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিশ্ব নেতারা যখন তাদের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন বাইরের এই জনরোষ তাদের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ার ওপর এক ধরনের নৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। এটি একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে, বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে সাধারণ মানুষের মতামত ও চাহিদা উপেক্ষা করা যায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বিক্ষোভ বিশ্ব নেতাদের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এটি জি-৭ দেশগুলোকে তাদের বর্তমান নীতিগুলো পুনর্বিবেচনা করতে এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করতে উৎসাহিত করতে পারে। ভবিষ্যৎ নীতি প্রণয়নে এই জনমতের প্রতিফলন একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, জেনেভায় জি-৭ বিরোধী বিক্ষোভ বিশ্বজুড়ে চলমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুগুলোর প্রতি মানুষের সচেতনতা এবং তাদের দাবি আদায়ের আকাঙ্ক্ষাকেই তুলে ধরে। এটি একটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, বিশ্ব মঞ্চে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরও শোনা অপরিহার্য।
আরো বিদেশ সংবাদ
সৌদি আরব ও কুয়েতের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন
যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব ও কুয়েতের কাছে প্রায় ২৪৪ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের জন্য ১.৯৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের উন্নত মানের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রের একটি প্যাকেজ রয়েছে।
১৬ জুলাই, ২০২৬ এ ১১:০০ AM
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি ইরাক থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেবে। তবে, মার্কিন কোম্পানিগুলো ইরাকে তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে পারবে।
১৫ জুলাই, ২০২৬ এ ১১:০০ AM
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
মাত্র এক বছরের মাথায় ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ইউলিয়া স্বিরিদেঙ্কো।
১৫ জুলাই, ২০২৬ এ ০৮:০০ AM
যুক্তরাজ্যে তরুণদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মধ্যরাতের কারফিউ
যুক্তরাজ্য সরকার ১৬-১৭ বছর বয়সী তরুণদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে মধ্যরাতের পর কারফিউ জারির পরিকল্পনা করছে। এর উদ্দেশ্য হলো তরুণদের পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনা ও পারিবারিক সম্পর্কে আরও মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করা।
১৫ জুলাই, ২০২৬ এ ০৭:০০ AM
