রাসায়নিকমুক্ত আম চেনার উপায় ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি
নিজস্ব প্রতিবেদক·১২ জুন, ২০২৬ এ ০৯:০০ AM
গ্রীষ্মের তাপদাহে আম বাঙালির কাছে এক বিশেষ আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। ফলের রাজা হিসেবে পরিচিত এই ফলটি কেবল স্বাদের জন্যই নয়, পুষ্টিগুণের জন্যও সমাদৃত। তবে, বাজারে আমের সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে আম দ্রুত পাকানো এবং দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের জন্য কার্বাইড, ফরমালিন ও বিভিন্ন কীটনাশকের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করছেন। এই রাসায়নিকযুক্ত আম আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম চেনার কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে পাকা আম সাধারণত গাঢ় হলুদ বা লালচে রঙের হয় এবং এর গন্ধও সুগন্ধি হয়। কিন্তু রাসায়নিকযুক্ত আমে হলুদের আভা বেশি উজ্জ্বল ও কৃত্রিম মনে হতে পারে। আবার, অনেক সময় আমের গায়ে সাবানের মতো সাদাটে আস্তরণ দেখা যায়, যা কার্বাইড ব্যবহারের লক্ষণ। ফরমালিনযুক্ত আমে তেমন কোনো মিষ্টি গন্ধ থাকে না, বরং এক ধরনের ঝাঁঝালো বা অস্বস্তিকর গন্ধ পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া, আম কাটার পর যদি এর শাঁস শক্ত মনে হয় এবং দ্রুত কালো হয়ে যায়, তবে তা রাসায়নিক মেশানো থাকার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
কার্বাইড, ফরমালিন ও কীটনাশক মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কার্বাইড চোখের সমস্যা, ত্বকের রোগ এবং শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। ফরমালিন একটি মারাত্মক বিষ যা লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে। এটি ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবেও পরিচিত। কীটনাশকগুলো আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘ মেয়াদে বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই রাসায়নিকযুক্ত ফল খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক।
রাসায়নিকের ব্যবহার থেকে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ক্রেতাদের সচেতন হওয়া জরুরি। আম কেনার সময় উপরোক্ত লক্ষণগুলো খেয়াল রাখা উচিত। সম্ভব হলে, পরিচিত ও বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে আম কেনা ভালো। আম বাড়িতে আনার পর ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে রাসায়নিকের কিছু অংশ দূর হতে পারে। এছাড়া, সাধারণ তাপমাত্রায় রেখে আম স্বাভাবিকভাবে পাকার জন্য অপেক্ষা করা যেতে পারে, যদিও এতে কিছুটা সময় বেশি লাগে।
আমের স্বাভাবিক পচন রোধ করতে এবং বাজারজাতকরণ সহজ করতে কিছু বিক্রেতা ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার করেন, যা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। ইথিলিন একটি প্রাকৃতিক হরমোন যা ফল পাকার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এই গ্যাস ব্যবহার করা আমে সাধারণত কার্বাইড বা ফরমালিনের মতো ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যায় না। তবে, এটিও পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত।
নিরাপদ আম বাছাইয়ের জন্য কিছু সহজ টিপস অনুসরণ করা যেতে পারে। আমের গায়ে হালকা চাপ দিয়ে দেখতে পারেন, যদি এটি বেশি শক্ত বা বেশি নরম না হয় তবে তা ভালো। আমে পোকা বা দাগ আছে কিনা তাও দেখে নেওয়া উচিত। যে আমের খোসা মসৃণ এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতার, সেটি বেছে নেওয়া যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি জৈব চাষের মাধ্যমে উৎপাদিত আম খুঁজে বের করতে পারেন।
আমের মৌসুম কেবল স্বাদের নয়, সতর্কতারও। রাসায়নিকমুক্ত, নিরাপদ আম খেয়ে আমরা গ্রীষ্মের এই আনন্দকে স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারি। ক্রেতাদের সচেতনতা এবং বিক্রেতাদের নৈতিকতা – এই দুইয়ের সমন্বয়েই সম্ভব ভেজালমুক্ত আমের বাজার নিশ্চিত করা।
আরো বাংলাদেশ সংবাদ
শ্রীমঙ্গলে হাঁস-মুরগি খোয়া যাওয়ার রহস্য উন্মোচন, ধরা পড়লো অজগর
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বাড়ি থেকে নিয়মিত হাঁস-মুরগি হারিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন বৃহস্পতিবার সকালে সাপটি উদ্ধার করে।
১৬ জুলাই, ২০২৬ এ ০৭:০০ PM
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সায়েন্স ল্যাবে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা এবার সায়েন্স ল্যাবরটরি মোড় থেকে সচিবালয় অভিমুখে লং মার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আজ রাত ১০টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না করলে আগামীকাল সকাল ১০টায় এই কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
১৬ জুলাই, ২০২৬ এ ১০:০০ AM
রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার: মানব ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ
রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার মানবজাতির চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক বিপ্লবী পরিবর্তন এনেছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনারের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার রক্ত সঞ্চালনকে নিরাপদ করেছে এবং অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। এর আগে রক্ত সঞ্চালন প্রায়শই মারাত্মক প্রমাণিত হতো, কারণ বিজ্ঞানীরা জানতেন না যে সব রক্ত একই রকম নয়। ল্যান্ডস্টেইনারের গবেষণা কীভাবে এই রহস্য উন্মোচন করলো, সেই ইতিহাসই এখানে তুলে ধরা হলো।
১৬ জুলাই, ২০২৬ এ ০৯:০০ AM
দামুড়হুদায় মডেল মসজিদের কোরআন শিক্ষা কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা মডেল মসজিদে কোরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবারের ঘটনার পর রোববার উভয় পক্ষ পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
১৩ জুলাই, ২০২৬ এ ১০:০০ AM
